গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীকে (২৪) হত্যার ঘটনায় ২১ জনের নামে মামলা হয়েছে। এ মামলায় তিনজন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা একজনসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব হোসেন। সোমবার রাতে সাঘাটা থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত সাইফুল্লাহ বারীর বাবা হাবিবুর রহমান। মামলা নম্বর ২৩। মামলায় নামীয় আসামি ৬ জন এবং অজ্ঞানামা আসামি করা হয়েছে ১৪ থেকে ১৫ জনকে।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন- বোনারপাড়া ইউনিয়নের পূর্ববাটি গ্রামের আকবর খন্দকারের ছেলে আশরাফ খন্দকার (৩৫), পূর্ব শিমুলতাইড় গ্রামের শাহআলমের ছেলে রবিউল ইসলাম (৪৩), মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে শাহ আলম (৪৫) ও চকদাতেয়া গ্রামের মৃত শওকত আলীর ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫৮)। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে আশরাফ খন্দকারকে ঘটনার দিন (২১ জুন) রাতে ও অন্য তিন আসামিকে গতকাল রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মোকলেছুর রহমান মুকুল, তার ছোট ভাই পলাশ ও মোনারুল ইসলাম। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি করা হয়েছে মোকলেছুর রহমান মুকুলকে। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব হোসেন বলেন, মামলায় এ পর্যন্ত নামীয় তিনজন ও তদন্তে পাওয়া একজনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, গত রোববার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোনারপাড়া বাজারের চারমাথা চত্বরে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বিষয় নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে তর্ক বাধে। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন লোহার শাবল দিয়ে শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর গলায় সজোরে আঘাত করলে শাবল গলার এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হতে থাকে। একই সময় সাইফুল্লাহ বারীর বন্ধু সালাউদ্দিনকেও ছুরিকাঘাত করেন প্রতিপক্ষরা। পরে স্বজনরা সাইফুল্লাহ বারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন (২২ জুন) বাদ আসর বোনারপাড়া সরকারি আজহার আলী স্কুল মাঠে বাবার ইমামতিতে জানাজা শেষে বোনারপাড়া সরকারি কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
অপরদিকে একই সময়ে গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ চিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে ২২ জুন রাতেই তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। তিনি একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী।
