হটস্পট বরগুনার সদরে ২৩ হাজার শিশু পাবে হামের টিকা

হটস্পট বরগুনার সদরে ২৩ হাজার শিশু পাবে হামের টিকা

হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় শিশুদের হামের টিকা প্রদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে হামের হটস্পট বরগুনা সদর উপজেলায়ও টিকা প্রদান কার্যক্রম চালু হয়েছে।

সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অরুনাভ চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে এ উপজেলায় নির্ধারিত বয়সের কমপক্ষে ২৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। রোববার সকাল ৮টার দিকে বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ সদর উপজেলার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের মোট ১১টি কেন্দ্রে প্রথমদিন টিকাদান শুরু হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মোট ৪০টি কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে শিশুদের টিকা প্রদান করা হবে। এর মধ্যে বরগুনা পৌরসভায় ২৫টি এবং উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নের ১৫টি কেন্দ্রে টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রথমদিন পৌরসভার ৫টি এবং সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৬টি কেন্দ্রে টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। ২১ দিনব্যাপী এ জরুরি টিকা কার্যক্রমে বরগুনা সদর উপজেলার ২৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের টিকা প্রদান কেন্দ্রে টিকা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা ভিড় করছেন। একত্রে একাধিক শিশু আসায় মাঝেমধ্যে জটলা তৈরি হলেও টিকা প্রদানে নিয়োজিত কর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে শিশুদের টিকা দিচ্ছেন।

বরগুনা শহীদ স্মৃতি সড়কের বাসিন্দা মিষ্টি বিশ্বাস সাত মাস বয়সী শিশু শ্রেয়সীকে নিয়ে হাসপাতাল কেন্দ্রে টিকা দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘নয় মাস বয়স হলে হামের টিকা দেওয়ার কথা। তবে সরকারের ঘোষণা শুনেছি ছয় মাস বয়স থেকেই শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। আর এ কারণেই সবার শুরুতেই বাচ্চাকে নিয়ে টিকা দিতে এসেছি।’

পাঁচ বছর বয়সী তাইয়েবা নামে আরেক শিশুর মা নাসরিন আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়েকে ছোট সময় টিকা দিয়েছি। কিন্তু এখন আবার সরকার ঘোষণা করেছে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের টিকা দিতে হবে। এ কারণেই মেয়েকে টিকা দিতে নিয়ে এসেছি।’

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ (ইপিআই) মো. এনামুল কবির বলেন, ‘আজ থেকে আমাদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সরকারি ছুটি বাদে প্রতিদিনই নির্ধারিত বয়সের শিশুদেরকে টিকা প্রদান করা হবে। এর জন্য যে পরিমাণ ভ্যাকসিন প্রয়োজন তা আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে। যদি আরও বেশি প্রয়োজন হয় তাহলে চাহিদা অনুযায়ী আমাদেরকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হবে।’

ডা. অরুনাভ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার সঙ্গে বরগুনা সদর উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরি মুহূর্তে সদর উপজেলায় হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছি। এ উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রত্যেক শিশুকে সিঙ্গেল এক ডোজ করে হামের টিকা দেওয়া হবে।’

বরগুনা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত সন্দেহে ১৪৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হলে পরীক্ষার পর ২৫ জনের হাম ও একজনের রুবেলা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় হাম সন্দেহে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন ২৭ জন রোগী। হাম আক্রান্ত হয়ে জেলায় এখন পর্যন্ত মোট তিন শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন