চুনারুঘাট উপজেলায় কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির নেতৃত্বে প্রাণ কোম্পানির মুরগিবাহী গাড়ি আটকিয়ে প্রায় ১৬০টি মুরগি চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় গাড়ির ড্রাইভার ও হেলপারের মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত ১০টার পর উপজেলার ১নং গাজীপুর ইউনিয়নের উছমানপুর গ্রামে অবস্থিত প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হবিগঞ্জ এগ্রো লিমিটেড থেকে লেয়ার মুরগি নিয়ে একটি গাড়ি বের হলে এ ঘটনা ঘটে।
প্রাণ কোম্পানির উছমানপুরস্থ হবিগঞ্জ এগ্রো লিমিটেডের ম্যানেজার মাসুদ আহমেদ জানান, ওই রাতেই কোম্পানির মুরগিবাহী গাড়িটি ৩নং গেইটের সামনে পৌঁছালে একদল যুবক গাড়ির গতিরোধ করে। এ সময় গাজীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাকিল মিয়া (ফারহান শাকিল)-এর নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন যুবক জোরপূর্বক গাড়ি থেকে প্রায় ১৬০টি মুরগি চুরি করে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চুরির সময় ড্রাইভার ও হেলপারের কাছ থেকে দুটি মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। কোম্পানির সুপারভাইজার আশফাক ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে তার মোটরসাইকেলের চাবিও নিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। পরে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যস্থতায় মোটরসাইকেলের চাবি ও একটি মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানির ম্যানেজার মাসুদ আহমেদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শাকিল গাজীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি। অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বে এলাকায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির একটি গ্রুপ গড়ে উঠেছে।
গাজীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রিয়াদ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমেদ বলেন, “শাকিল ফারহান গাজীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের গঠিত কমিটির সভাপতি। তবে তাকে কখনো দলীয় কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি।”
চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, “ছিনতাইকারী বা চাঁদাবাজ যেই হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
