চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে রমজানের শেষ দশকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় দেশের অন্যতম বৃহৎ ইতিকাফের আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী নানুপুর জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া মাদ্রাসা মসজিদে চলতি বছর প্রায় ২৭০০ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, মুসল্লিদের সংখ্যার দিক থেকে এটি দেশের বৃহত্তম ইতিকাফের আয়োজন।
মাদ্রাসার বিশাল মসজিদের তিনতলা জুড়ে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করছেন মুসল্লিরা। তারা জাগতিক কোলাহল ও পারিবারিক ব্যস্ততা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন রয়েছেন। এখানে দিন-রাত কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, তসবিহ পাঠ ও জিকির-আজকারের মাধ্যমে অতিবাহিত হচ্ছে, ফলে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও শান্তিময় পরিবেশ।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক দল মুসল্লিদের সেবা নিশ্চিত করছে। তারা অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ মুসল্লিদের কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজে আন্তরিকভাবে সহায়তা করছেন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ইতিকাফকারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার মুসল্লির মাঝে মানসম্মত খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এছাড়া, মুসল্লিদের কোরআন তেলাওয়াত ও নামাজের সঠিক নিয়ম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা আলেমদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও চমৎকার শৃঙ্খলার কারণে এখানে ছুটে আসছেন। বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া ও ইবাদতের অনুকূল পরিবেশ পাওয়ায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মাদ্রাসার পরিচালক আল্লামা শাহ সালাউদ্দিন নানুপুরী বলেন, “আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই মেহমানদের সেবা করতে পারা আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্যের ও ইবাদতের অংশ। মুসল্লিদের ইবাদত যেন নির্বিঘ্ন হয়, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি।”
প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে নানুপুরের এই আয়োজন সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
