নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে নারীদের সঙ্গে পর্ন ভিডিও তৈরির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একাধিক অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বর্তমানে তিনি ওএসডি অবস্থায় রয়েছেন।
হাতিয়ার এই ঘটনার প্রভাব সুনামগঞ্জেও পৌঁছেছে, কারণ মো. আলাউদ্দিন এর আগে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও শাল্লা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইউএনও আলাউদ্দিন ভিডিওগুলোকে ভুয়া দাবি করে জানান, পূর্ববর্তী কর্মস্থলের বিরোধের কারণে কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
সুনামগঞ্জে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে তাকে ওএসডি করা হয়েছে। ইউএনও মো. আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ছড়ানো ভিডিওগুলোর দৈর্ঘ্য ৯ থেকে ১৮ মিনিট পর্যন্ত এবং এগুলো নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, তার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছেন। শাল্লা উপজেলার বাসিন্দা মৃদুল দাস জানান, আলাউদ্দিন তার জমির ওপর নির্মিত ওয়ার্কশপ ভেঙে দেওয়ার ফলে তার considerable আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
শাল্লা উপজেলার একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি একটি নির্মাণকাজ চলাকালে জুয়েল মিয়া নামে এক ট্রলি চালককে মারধর করা হয়, যার ফলে তার ডান কাঁধ ভেঙে যায়। এছাড়াও, মো. ফারুক মিয়া অভিযোগ করেন যে, ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মতে, ইউএনও সোমবার সকালে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর কর্মস্থল ত্যাগ করেন এবং এরপর থেকে তিনি কারও ফোন রিসিভ করছেন না। নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন এবং বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
