শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থান ও চাঁদাবাজিমুক্ত শিল্পাঞ্চল গড়ার অঙ্গীকার

শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থান ও চাঁদাবাজিমুক্ত শিল্পাঞ্চল গড়ার অঙ্গীকার

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনকে চাঁদাবাজিমুক্ত, পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চল এবং আদর্শ নির্বাচনি এলাকায় রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী। তিনি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে কার্যকর পরিকল্পনার কথাও জানান।

মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সীতাকুণ্ড ছাত্র সমিতি—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বার্ষিক ইফতার, নবীনবরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসলাম চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন শেষ করার পরপরই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে। এ লক্ষ্যে শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের উৎপাদনমুখী জনশক্তিতে রূপান্তর করা হবে।

তিনি সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চলকে একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক শিল্প বেল্ট হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন, যেখানে পরিবেশ সুরক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সুশাসন নিশ্চিত করা হবে। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।

শিল্পপতিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকার যুবসমাজ ও শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিলে বেকারত্ব কমবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন এবং সীতাকুণ্ড থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সীতাকুণ্ড ছাত্র সমিতির সভাপতি সাদমান ইউসুফ সাজিদ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মহিন উদ্দিন সৌরভ। প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি অর্জনের স্থান নয়, এটি নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্র।

অনুষ্ঠানে ইফতারের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হওয়া ২৯ জন নবীন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাদের হাতে ক্রেস্ট ও ফুল তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী বলেন, সীতাকুণ্ড ছাত্র সমিতি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন, যেখানে সকল মত ও পথের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে কাজ করে। সংগঠনের ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখাই আমাদের মূল শক্তি।

আরও পড়ুন