দেশে সম্প্রতি অতি সংক্রামক রোগ হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১২ জেলায় এ রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে অন্তত চার ডজন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং হাসপাতালে কয়েক হাজার শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল অভিযোগ করেছেন, গত আট বছর হামের টিকা না দেওয়ার কারণেই এই রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। তবে রিউমর স্ক্যানার টিম জানিয়েছে, মন্ত্রীর এই দাবি সঠিক নয়। তাদের অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০ সালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চালানো হয়েছিল, যা ২০২১ সাল পর্যন্ত চলমান ছিল।
রিউমর স্ক্যানার আরও জানায়, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের আওতায় শিশুদের টিকা দেওয়ার সময়ের ছবি ও তথ্য ফেসবুকে পাওয়া গেছে। ইউনিসেফের বাংলাদেশ শাখার ২০২১ সালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মহামারির প্রথম দিকের মাসগুলোতে টিকাদান সেবা ব্যাহত হলেও ২০২০ সালের জুনে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবির সাথে একমত নয় এবং জানিয়েছেন, নিয়মিত টিকাদানের অংশ হিসেবে সব সময় টিকা দেওয়া হয়। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উপপরিচালক মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ২০২০ সালে সর্বশেষ ক্যাম্পেইন হয়েছে এবং ২০২৪ সালে নতুন ক্যাম্পেইনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি চার বছর অন্তর ফলোআপ হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রতিবছরই এই টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে এবং ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হামের টিকাদানের হার কখনোই ৮১ শতাংশের নিচে নামেনি।
অতএব, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি যে গত আট বছরে হামের টিকা দেওয়া হয়নি, তা সঠিক নয়। সরকার ২০২০ সালেও টিকার কর্মসূচির আওতায় টিকা বিতরণ করেছে এবং নিয়মিত টিকা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
