ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের আগুনিয়াপাড়া গ্রামের মিঠু হোসেন (২১) কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে মিঠুর। তাহলে তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।
ছেলেকে একটি কিডনি দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন মা শাহনাজ বেগম। ছেলের রক্তসহ সব কিছুই মায়ের সঙ্গে মিলে গেছে। এখন শুধু কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষা। কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপন করতে যে খরচ সেই পরিমাণ টাকা নেই তাদের কাছে।
জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মিঠু। পরে বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে জানা যায়, তার একটি কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেছে এবং অপর কিডনিটিও প্রায় ৮০ শতাংশ বিকল। বর্তমানে তাকে সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে। এতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার টাকা।
মিঠুর মা জানান, সংসারের সবকিছু বিক্রি করে ইতোমধ্যে ঢাকার শ্যামলীতে সিকেডি হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসা চালানো হয়েছে। সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কিডনি প্রতিস্থাপন করা গেলে মিঠু আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অপারেশন, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ ও ওষুধসহ মোট প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হবে। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ, এতো টাকা জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমি সমাজের সকলের কাছে আমার ছেলের জীবনের জন্য সাহায্য চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান জানান, মিঠুর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এখন সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে মিঠুর জীবন বাঁচানো সম্ভব।
একই গ্রামের শাহাজান বিশ্বাস বলেন, মিঠুর বাবা একজন ভ্যানচালক। চিকিৎসার জন্য তার যা কিছু ছিল সব বিক্রি করে দিয়েছে। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। দ্রুত সহায়তা পেলে মিঠুর জীবন রক্ষা পেতে পারে।
