ঢাকায় মশার উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় নগরবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কাঁঠালবাগান এলাকার বাসার কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান জানান, সন্ধ্যার পর মশার উৎপাত তাকে সমস্যায় ফেলে এবং প্রতি থাপ্পড়ে অন্তত ৫টি মশা মারা যায়। পান্থপথ এলাকার বস্তিতে বসবাসকারী কয়েকজন নারী মশার উৎপাতের কারণে ঘরে থাকতে পারছেন না বলে রাস্তায় বসে কাগজ জ্বালিয়ে মশা নিবারণের চেষ্টা করছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব গবেষক অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বাংলাভিশনকে জানান, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বিগত ৫ বছরের তুলনায় মশার ঘনত্ব বেশি ছিল। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ঢাকায় একজন মানুষকে প্রতি ঘণ্টায় কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০টি মশা। অধ্যাপক বাশার আরও বলেন, ফগিং পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় এবং বিশ্বের অনেক দেশও এখন এই পদ্ধতি ব্যবহার করছে না। মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে লার্ভা স্তর থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, ডিজেল সংকটের কারণে মশক নিধন কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল, তবে পেট্রোবাংলার সঙ্গে সমাধান করা হয়েছে। তিনি বলেন, খালগুলো অপরিচ্ছন্ন থাকায় সেখান থেকেই মশার উৎপত্তি হচ্ছে এবং নগরবাসী সহযোগিতা না করলে শতভাগ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, তিনি মশা নিধনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছেন এবং ইতোমধ্যেই মশা সংক্রান্ত অভিযোগ কমেছে। তিনি ওয়ার্ড পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি সংকটের প্রভাব স্বীকার করে বলেন, ঢাকার আসনগুলো থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরও কাজে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
