নারী কর্মী সুমিকে গ্রেপ্তার অন্যায় ও মানবাধিকারের পরিপন্থি

নারী কর্মী সুমিকে গ্রেপ্তার অন্যায় ও মানবাধিকারের পরিপন্থি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা পৌরসভার নারী কর্মী সাওদা সুমির গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি একে অন্যায় ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, সুমিকে গত রোববার রাত ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকারের সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, যা মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

পরওয়ার বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধান স্বীকৃত নাগরিক অধিকার। সরকারবিরোধী মত প্রকাশ করলেই কাউকে গ্রেপ্তার করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্রমাগতভাবে বিরোধী মত ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কণ্ঠরোধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে। সুমির গ্রেপ্তার সরকারের দমনমূলক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পরওয়ার বলেন, একটি স্বাধীন দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মত প্রকাশ করাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের গ্রেপ্তার দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলবে এবং জনগণের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী সমাজ, সাংবাদিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসমূহের প্রতি আহ্বান জানান। বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং প্রতিবাদ জানাতে তিনি অনুরোধ করেন।

পরওয়ার নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, দেশের নাগরিকদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। জনগণের অধিকার হরণ করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানোর দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জামায়াতে ইসলামী সুমির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে। সংগঠনটি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করে জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন