একাধিক গর্ভধারণ বলতে বোঝায় যখন একজন নারী একই সময়ে একের বেশি সন্তান গর্ভে ধারণ করেন। সাধারণত যমজ সন্তানই বেশি দেখা যায়, তবে তিনটি বা তারও বেশি শিশুও থাকতে পারে। একক গর্ভধারণের তুলনায় এতে মা ও শিশুর জন্য বাড়তি যত্ন প্রয়োজন।
যমজ গর্ভধারণ দুইভাবে হয়: ফ্র্যাটারনাল (ডাইজাইগোটিক) এবং আইডেন্টিকাল (মনোজাইগোটিক)। ফ্র্যাটারনাল যমজে একাধিক ডিম্বাণু আলাদা শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়, ফলে শিশুরা দেখতে ভিন্ন হতে পারে। আইডেন্টিকাল যমজে একটি নিষিক্ত ডিম্বাণু বিভক্ত হয়ে দুটি ভ্রূণ তৈরি করে, যাদের জিনগত গঠন একই এবং তারা দেখতে প্রায় একই রকম হয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ১০০০ গর্ভধারণের মধ্যে প্রায় ৯টিতে যমজ সন্তান জন্ম নেয়। যমজ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায় মায়ের বয়স (বিশেষ করে ৩৫ বছরের বেশি), পারিবারিক ইতিহাস, ফার্টিলিটি চিকিৎসা যেমন আইভিএফ, উচ্চ বিএমআই (৩০-এর বেশি) এবং আগে যমজ সন্তান হওয়া।
যমজ গর্ভধারণের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে পেট দ্রুত বড় হওয়া, দ্রুত ওজন বৃদ্ধি, আগেই শিশুর নড়াচড়া অনুভূত হওয়া, ডপলারে একাধিক হৃদস্পন্দন শোনা, এবং হরমোনের মাত্রা (বিটা এইচসিজি ও আলফা ফিটোপ্রোটিন) বেশি থাকা। গর্ভাবস্থার সাধারণ উপসর্গ যেমন বমি, দুর্বলতা, স্তনে ব্যথা ও ঘন ঘন প্রস্রাবও বেশি মাত্রায় দেখা যায়।
যমজ গর্ভধারণ বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে: দুটি আলাদা ডিম্বাণু আলাদা গর্ভফুল ও থলিতে (সবচেয়ে নিরাপদ), দুটি শিশু আলাদা থলিতে কিন্তু একই গর্ভফুল শেয়ার করে (যাতে টুইন-টু-টুইন ট্রান্সফিউশন সিনড্রোম হতে পারে), এবং সবচেয়ে জটিল অবস্থায় দুটি শিশু একই থলি ও গর্ভফুল ভাগ করে (অত্যন্ত বিরল)।
মায়ের জন্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে রক্তস্বল্পতা, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া, এবং প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। শিশুর জন্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অকাল জন্ম, কম ওজন, জন্মগত ত্রুটি, শ্বাসকষ্ট, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা। গর্ভে পানি কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া এবং গর্ভফুলের সমস্যাও হতে পারে।
যমজ গর্ভধারণে নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ গর্ভধারণের তুলনায় বেশি ঘন ঘন আল্ট্রাসাউন্ড ও ডাক্তারি পরীক্ষা প্রয়োজন। প্রসবের ক্ষেত্রে কখনো স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব হলেও, শিশুর অবস্থান অস্বাভাবিক বা গর্ভফুলের জটিলতা থাকলে সিজারিয়ান ডেলিভারির প্রয়োজন হয়। প্রসবের পর যমজ শিশুর যত্ন চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, তাই পরিবার ও কাছের মানুষের সহায়তা জরুরি।
