বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ১১০ কোটি (১.১ বিলিয়ন) ডলার সহায়তা দিচ্ছে। দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এই অর্থ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে খাদ্য, সার এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও রাজস্ব সংকোচনের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র চাষি ও দরিদ্র মানুষের ওপর। এই পরিস্থিতিতে চাল উৎপাদন সচল রাখতে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া এবং কর্মসংস্থান ও জরুরি সেবা চালু রাখতে বিশ্বব্যাংক এই জরুরি সহায়তা দিচ্ছে।
অনুমোদিত তহবিলের মধ্যে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি’ প্রকল্পের আওতায় মিলবে ৩০ কোটি ডলার। এই অর্থ দিয়ে ২০২৬ সালের জুলাই-অক্টোবরের আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানি করা হবে। বাংলাদেশ তার চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশের বেশি সার আমদানি করে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ লাখ মেট্রিক টন জরুরি সার আমদানি সম্ভব হবে, যার অর্ধেক হবে ইউরিয়া সার। এর ফলে ক্ষুদ্র কৃষকদের অধীনে থাকা প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমির ধান চাষ নিশ্চিত হবে।
বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা মূলত আমন ও বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল, যা দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ। দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী কৃষি খাতের সঙ্গে যুক্ত। ফলে সারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে এবং দারিদ্র্য বাড়বে।
অন্যদিকে, ‘কন্টিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স’ প্রকল্পের আওতায় ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য সংকটকালীন সময়ে মানুষের আয় স্থিতিশীল রাখা ও চাকরি টিকিয়ে রাখা। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোর জন্য দ্রুত নগদ অর্থ স্থানান্তর ও জীবিকা নির্বাহের সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও পানির মতো জরুরি সেবা সচল রাখতে জ্বালানি ও শক্তি সরবরাহের পেছনেও এই অর্থ ব্যয় করা হবে। ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যেই এই প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের কথা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, তাদের ক্রাইসিস প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স টুলকিটের আওতায় এই অর্থ দ্রুত ছাড় করা হচ্ছে। চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ দিয়ে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে, যাতে সংকটের মুহূর্তে প্রয়োজনীয় খাতে সরাসরি সম্পদ বণ্টন করা যায়।
