কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল ও নাফ নদী এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে আটক ৭৩ বাংলাদেশি জেলে দেশে ফিরেছেন। তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
সোমবার বিকালে বাংলাদেশ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাট দিয়ে তারা দেশে ফেরেন। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ (বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে গমনকৃত বেশকিছু বাংলাদেশি জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে দেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করলে তাদের আরাকান আর্মি কর্তৃক আটক করা হয়।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে আটক জেলেদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয় এবং বিভিন্ন মেয়াদে তারা সেসব ক্যাম্পে আটক অবস্থায় থাকে। তাদের মধ্য থেকে ৭৩ জন বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হয়েছে।
মানবিক বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কক্সবাজার অঞ্চলের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক সমন্বিত উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে, আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আটক জেলেদের ধাপে ধাপে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয় এবং পর্যায়ক্রমে আটক জেলেদের হস্তান্তরের ব্যবস্থা গৃহীত হয়।
এর ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকালে প্রথম ধাপে মোট ৭৩ জন বাংলাদেশি জেলেকে নাফ নদীর শূন্য লাইনে আরাকান আর্মির নিকট হতে গ্রহণ করে টেকনাফ জেটিঘাটে ফেরত আনা হয়েছে ও পরিবারের কাছে হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
মিয়ানমার থেকে ফেরত শাহ পরীর দ্বীপের মোহাম্মদ ইলিয়াস জানান, ৬ মাস ৪ দিন আগে মাছ শিকারের সময় জলসীমা অতিক্রম করায় আমাদের ৫ জনকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। যার মধ্যে আমার দুই ছেলে আক্কেল আলী ও মোহাম্মদ ইসলামও ছিল। আমাদের মিয়ানমার ভুশিডং জেলে রাখা হয়েছিল। অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। তবুও বাংলাদেশ সরকার আমাদের দেশে ফিরিয়ে আনায় ধন্যবাদ।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম জানান, আমাদের সেন্টমার্টিনের ১২ জেলে মিয়ানমার থেকে দেশে ফিরে এসেছে। তাই আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। তাদের মতো আরও যারা বন্দি আছেন তাদেরও ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।
