রমজানের যে অবহেলিত আমল নিয়ে কথা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

রমজানের যে অবহেলিত আমল নিয়ে কথা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের বিশেষ সময়। এই মাসে নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত ও দান-সদকার পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ইবাদত রয়েছে, যেগুলোর প্রতি অনেক সময় যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইতিকাফ, যা বর্তমানে একটি অবহেলিত ইবাদতে পরিণত হয়েছে। জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ মনে করেন, রমজানের ইবাদতকে পূর্ণতা দিতে ইতিকাফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বলেন, মহানবী (সা.) এই আমলটি কখনো ত্যাগ করেননি, অথচ অধিকাংশ মানুষ জীবনে একবারও এটি পালন করেননি। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে যে, নবী (সা.) তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। (বুখারি ২০২৬, মুসলিম ১১৭২)

সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারের কারণে মানুষের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে। ফেসবুকের রিলস বা ছোট ভিডিওর মতো মানুষের চিন্তাভাবনাও এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে ছুটে বেড়ে। এর ফলে মনোযোগ দিয়ে লেখা পড়া বা গভীরভাবে চিন্তা করার সুযোগ কমে যাচ্ছে। এমনকি দুই রাকাত নামাজও পূর্ণ একাগ্রতার সঙ্গে আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় নিজের আত্মাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য ইতিকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে।

ইতিকাফকে আল্লাহর দিকে একাগ্রচিত্তে মনোনিবেশ করার বিশেষ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এটি মানুষের জীবন থেকে দুনিয়াবি ব্যস্ততা ও কোলাহলকে কিছু সময়ের জন্য দূরে সরিয়ে দেয়। এর মাধ্যমে একজন মুমিন মহান আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করার সুযোগ পান। কুরআনে ইতিকাফের কথা উল্লেখ রয়েছে, যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করো না।’ (সুরা আল-বাকারা: ১৮৭)

শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, ইতিকাফ এমন একটি ইবাদত যা মানুষের নিজের গুনাহ, আখিরাতের প্রস্তুতি এবং মহান রবের সঙ্গে সম্পর্ককে গভীরভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ তৈরি করে। তিনি বলেন, সিয়াম যেমন মানুষের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়, তেমনি ইতিকাফ মানুষের আত্মাকে আল্লাহর ঘরের সঙ্গে বেঁধে দেয় এবং তাকে আধ্যাত্মিক উন্নতির উচ্চ স্তরে পৌঁছাতে সহায়তা করে।

তার মতে, ইতিকাফ কেবল একটি ইবাদতই নয়, বরং এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং জীবন্ত আদর্শ, যা রমজানের ইবাদতকে আরও পরিপূর্ণ করে তোলে।

আরও পড়ুন