খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ি এলাকায় প্রতিবছর আগুনের কারণে অগণিত প্রাণী ও উদ্ভিদ ধ্বংস হচ্ছে। জুম চাষের প্রস্তুতি, বাগান পরিষ্কার, অব্যবস্থাপনা ও অসতর্কতার ফলে উন্মুক্ত আগুন পাহাড়ের জীববৈচিত্র্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। আগুনে সরীসৃপ, উভচর, পাখি, ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং বিভিন্ন কীটপতঙ্গ পুড়ে মারা যাচ্ছে, যার ফলে বনমোরগের বাসা, পাখির ডিম ও নবীন চারা ধ্বংস হচ্ছে।
শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ে আগুন লাগার আতঙ্ক শুরু হয়। যদিও জুম চাষের জন্য আগুন দেওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে, অনেক সময় এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এর ফলে পাশের বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক উদ্ভিদবিন্যাসেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মাটির উপরে ও নিচে বসবাসকারী প্রাণীরা পালানোর সুযোগ পায় না এবং এভাবে বিপুল পরিমাণ প্রাণী মারা যায়।
আগুন লাগলে পাখির ডিম ও বাসা ধ্বংস হয়, যা পাখিদের প্রজননচক্রকে ব্যাহত করে। এছাড়া, বিভিন্ন বাগান পরিষ্কারের জন্যও আগুন দেওয়া হয়, যা পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে মাটির উর্বরতা কমে যায় এবং কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও প্রভাবিত করবে।
পাহাড়ি বনে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় গাছ ও ঔষধি উদ্ভিদ। আগুনে এসব উদ্ভিদ পুড়ে গেলে পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বনাঞ্চলের ছায়া কমে যাওয়ায় মাটির আর্দ্রতা হ্রাস পায় এবং নতুন চারা জন্মানোর পরিবেশ নষ্ট হয়। আগুনের পরবর্তী সময়ে বৃষ্টিপাত হলে ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে, যা পাহাড় ধসের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি করে।
যাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা জানান, আগুন দেওয়ার ফলে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। সচেতনতা বাড়ানো গেলে স্থানীয়রা এসব ক্ষতিকর কাজ থেকে বিরত থাকতে পারে। খাগড়াছড়ি পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাছান আহম্মদ বলেন, অনিয়ন্ত্রিত আগুনের কারণে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি বন বিভাগের কর্মকর্তা ফরিদ মিঞা বলেন, এখানে প্রচুর বন্যপ্রাণী ও গাছপালা রয়েছে। আগুনের কারণে প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও পার্বত্য জেলা পরিষদ এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে।
পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা জানান, বন ও পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের মাধ্যমে নতুন করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। খাগড়াছড়ির পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
