ইরানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলি হামলা নিয়ে সতর্কতা দিয়েছে চীন। দেশটি বলেছে, ইরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করা হলে তা জনগণের সমর্থন পাবে না।
রোববার বেইজিংয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক বৈঠকের সাইডলাইনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, কোনো ধরনের ‘কালার রেভল্যুশন’ পরিকল্পনা করা বা সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করলে তা জনগণের সমর্থন পাবে না। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
ওয়াং আরো বলেন, ইরানসহ সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান, যাতে সংঘাত আরও না বাড়ে এবং এর প্রভাব অন্যত্র ছড়িয়ে না পড়ে। তিনি বলেন, এটি এমন একটি যুদ্ধ, যা হওয়া উচিত ছিল না।
ওয়াং বলেন, শক্তি কোনো সমাধান দেয় না, আর সশস্ত্র সংঘাত শুধু ঘৃণা বাড়ায় এবং নতুন সংকট তৈরি করে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জনগণই ওই অঞ্চলের প্রকৃত মালিক। তাই ওই অঞ্চলের বিষয়গুলো সেখানকার দেশগুলোকেই স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শক্তিশালী বর্জ্রমুষ্টি মানেই শক্তিশালী যুক্তি নয়। পৃথিবী আবার জঙ্গলের আইনে ফিরে যেতে পারে না। ওয়াং ‘সব পক্ষকে’ যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
একটি গোপনীয় মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল প্রতিবেদনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বড় পরিসরে সামরিক হামলা চালালেও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষমতা কাঠামো উৎখাত করা সম্ভব হওয়ার সম্ভাবনা কম।
বেইজিং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডেরও নিন্দা জানিয়েছে। ওয়াং বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা দেয়ার অভিযোগে পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার মুখে থাকা রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এখনো ‘দৃঢ় এবং অটুট’ রয়েছে।
