জয়পুরহাটে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার সরকারি আশ্বাস সত্ত্বেও অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এ কারণে যানবাহন চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। হাতে গোনা দুই-একটি পাম্প খোলা থাকলেও সেখানে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে সীমিত পরিমাণে, ফলে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।
জেলার সদর উপজেলাসহ পাঁচ উপজেলায় ২০টি তেল পাম্প রয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানান, গত দুই দিন ধরে চালকদের অতিরিক্ত তেল নেওয়ার প্রবণতায় পাম্পগুলোতে তেল নেওয়ার হিড়িক পড়েছে। এ কারণে পেট্রোল ও অকটেনের মজুত কমে আসায় রবিবার অধিকাংশ পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। যেসব তেল আছে সেগুলো জরুরি সেবা ও সরকারি গাড়ির জন্য সংরক্ষিত।
রবিবার (৮ মার্চ) সদর এলাকার বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ পাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কিছু পাম্পের প্রবেশপথ দড়ি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং মেশিনগুলো কাপড় দিয়ে মুছে রাখা হয়েছে। খোলা থাকা পাম্পগুলোতে প্রতি মোটরসাইকেলে মাত্র ১০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।
শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার মেসার্স তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল কিনতে আসা এক চালক জানান, পাম্পের প্রবেশপথ বন্ধ থাকায় অন্য কোনো পাম্পে যেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, উদয়ন ফিলিং স্টেশনে আসা আরেক চালক জানান, আধাঘণ্টা সিরিয়াল ধরে ১০০ টাকার তেল পেয়েছেন, যা দিয়ে ৫০ কিলোমিটারও যাওয়া যাবে না।
সদরের পাকারমাথা এলাকার মেসার্স মামুন ফিলিং স্টেশনে তেল কিনতে আসা সোহেল রানা বলেন, খোলা বাজারে তেল না পাওয়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। মেসার্স তাজ ফিলিং সেন্টারের ম্যানেজার খায়রুল আলম মুন্না জানান, তাদের পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ডিপো থেকে তেল আনতে যান। উদয়ন ফিলিং স্টেশনের মালিক শাহ নেওয়াজ রায়হান চৌধুরী জানান, রবিবার তারা ডিপোতে তেল পাননি, তবে সোমবার তেল পাওয়ার কথা রয়েছে।
