পটুয়াখালীর লোহালিয়া সেতুতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাড়ছে

পটুয়াখালীর লোহালিয়া সেতুতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাড়ছে

পটুয়াখালীর লোহালিয়া সেতু উদ্বোধনের দুই বছরের মধ্যে সেতুর অধিকাংশ ল্যাম্পপোস্টের আলো অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, যা ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা বাড়াচ্ছে।

রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুতে ৬১টি ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে, এর মধ্যে মাত্র ১৫টি আংশিকভাবে জ্বলছে। বাকি ৪৬টি ল্যাম্পপোস্ট সম্পূর্ণ অচল রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সেতু এলাকায় ছিনতাই ও মাদক গ্রহণের ঘটনা বেড়ে গেছে।

অটোচালক মো. মোশারফ বলেন, উদ্বোধনের সময় সেতুতে প্রচুর আলো ছিল, কিন্তু এখন রাতের অন্ধকারে ছিনতাইকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি আরো জানান, লোয়ালিয়া সেতু থেকে কাশিপুর যাওয়ার রাস্তাটি এখন ছিনতাইকারীদের হটস্পট হয়ে উঠেছে।

এক ভিক্ষুক মো. মনির জানান, তিনি নিজেও ছিনতাইকারীদের হাত থেকে রক্ষা পাননি। তিনি বলেন, এক রাতে অন্ধকারে রামদা দেখিয়ে তার ভিক্ষার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

সেতুর আশপাশের এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মোটরসাইকেল চালকরা জানান, সন্ধ্যার পর সেতুর রাস্তা খুবই ভয়ঙ্কর হয়ে যায়।

গত ২৯ জানুয়ারি সেতুর কাছে তিন সাংবাদিক ছিনতাইয়ের শিকার হন। সাংবাদিক এ জেড এম উজ্জ্বল জানান, তারা জরুরি কাজে যাওয়ার সময় সেতুর কাছে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন।

স্থানীয়রা এবং জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাকারিয়া আহমেদ সেতুর আলোকায়নের দাবি জানিয়েছেন। পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর জানান, লোহালিয়া সেতুর আলো অচল হওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, রাতের অন্ধকারে নিরাপত্তার জন্য পেট্রোল টিম কাজ করছে এবং ছিনতাইয়ের ঘটনার তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন