টাঙ্গাইলের মধুপুরে জমি উদ্ধারের নামে একটি গারো পরিবারের ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের অধীন রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরে ধারাটি গ্রামের কালাপাহাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযানের সময় পরিবারের বাড়ির চারপাশের গাছপালাও কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা গারো সম্প্রদায় ও বন বিভাগের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্বের আশঙ্কা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে মধুপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা জুবায়র হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, বিষয়টি ‘বাড়াবাড়ি’ হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে মধুপুরের গজারি বনের প্রায় ৭ হাজার একর জমি দখলে নিয়ে সেখানে রাবার বাগান করা হয়। ‘চাঁদপুর রাবার এস্টেট’ নামে পরিচিত এই বাগানটি এখনও লাভজনক হয়ে ওঠেনি। বর্তমানে বাগানজুড়ে কলা ও আনারসের চাষ হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চাঁদপুর রাবার এস্টেটের ম্যানেজার আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে সোমবার দুপুরে ওই বাড়ি উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘বন বিভাগের দখল হওয়া জমি উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর অংশ হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।’
ভুক্তভোগী রমেন কুবি ও শিবলি মাংসাং দম্পতির অভিযোগ, তাদের বাড়ি সরিয়ে নিতে বন বিভাগ থেকে কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি।
ইউএনও মির্জা জুবায়র হোসেন পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে যান। তিনি জানান, বাগান কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং পুনর্বাসন বা ঘর পুনর্নির্মাণের জন্য তাদের দুই বান্ডিল টিন, ছয় হাজার টাকা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানের সময় আনসার সদস্যদের পক্ষ থেকে বাড়াবাড়ি হয়েছে। ইউএনও ও ওসিকে না জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান না চালাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
