বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম টেলিভিশন ব্যবহারকারী বাজার। তবে সম্প্রচার ও ডিজিটাল কনটেন্ট ডিস্ট্রিবিউশন শিল্প কাঠামোগতভাবে অনুন্নত। এর ফলে সরকার বছরে আনুমানিক পাঁচ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
দেশের অধিকাংশ এলাকায় বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই সম্প্রচারিত হচ্ছে। লাইসেন্সবিহীন ওটিটি ও ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লাইভ চ্যানেল দেখানো এবং অবৈধ সেট-টপ বক্সের ব্যবহার বাড়ছে। এর ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বাজারে অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এই সংকটের প্রধান কারণ হলো পর্যবেক্ষণের অভাব, বাণিজ্যিক শৃঙ্খলার অভাব ও আইন প্রয়োগে ব্যর্থতা। দেশের কেবল টেলিভিশন ইকোসিস্টেমের বড় একটি অংশ এখনো অনিয়মতান্ত্রিক ও অ্যানালগ সংযোগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা গ্রাহক সংখ্যা শনাক্ত করতে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) তাদের সদস্যদের মধ্যে বাজার শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। লাইসেন্সবিহীন ওটিটি অ্যাপ ও আইএসপি প্ল্যাটফর্মগুলো দেশি-বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেল স্ট্রিম করছে, যা আইন লঙ্ঘন।
বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ কেবল নেটওয়ার্ক এখনো অ্যানালগ। ডিজিটালাইজেশন এবং আইনি কাঠামোর আওতায় আসলে বাংলাদেশ হতে পারে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ‘পে-টিভি’ বাজার।
প্রস্তাবিত সম্প্রচার অধ্যাদেশ, ২০২৬ এই কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো সমাধানের সুযোগ এনে দিয়েছে। এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে খাতটি একটি নিয়ন্ত্রিত শিল্পে রূপান্তরিত হতে পারে, যেখানে সব অংশীজন উপকৃত হবে।
কিছু সংস্কার অপরিহার্য। প্রথমত, লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কেবল নেটওয়ার্ককে ‘অ্যাড্রেসেবল ডিজিটাল সিস্টেম’-এর আওতায় আনতে হবে। তৃতীয়ত, বিদেশি পে-চ্যানেল প্রচারকে অননুমোদিত বিতরণ হিসেবে গণ্য করতে হবে। চতুর্থত, লাইসেন্সবিহীন ‘কনটেন্ট ট্রেডার’দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পঞ্চমত, অবৈধ ওটিটি ও আইএসপির আইপি ফিড ব্লক করতে হবে।
এসব সংস্কার এবং কঠোর দণ্ডবিধি বাস্তবায়ন হলে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি সুসংগঠিত শিল্পে পরিণত হতে পারে বাংলাদেশ। এই রাজস্ব আদায়ের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বিল বাড়ানোর প্রয়োজন নেই, বরং বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
ড. তারিক আলম, পিএইচডি প্রযুক্তি, মিডিয়া ও অবকাঠামো শিল্পে কৌশলগত বিষয়ে একজন পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন।
