স্বাভাবিক প্রসবের জন্য মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি জরুরি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গর্ভবতী নারীর বয়স, পূর্ব মেডিকেল রেকর্ড, জটিল রোগ, বাচ্চা ও গর্ভফুলের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে প্রসব পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। যোনিপথে স্বাভাবিক প্রসব সন্তান জন্ম দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় বলে জানান গাইনি চিকিৎসকরা।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম কাজল বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘রোগীর স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম দেওয়ার মানসিকতা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।’ স্বাভাবিক প্রসবের জন্য গর্ভবতী নারীকে নানা ধরনের প্রস্তুতি নিতে হয়।
মানসিক প্রস্তুতির বিষয়ে অধ্যাপক কাজল বলেন, ‘মাকে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে স্বাভাবিক প্রসব জিনিসটা কী? নরমাল ডেলিভারির রিস্ক নিতে সে সক্ষম কি না সে বিষয়ে ভাবতে হবে।’ যে কোনো ধরনের পরিস্থিতির জন্য রোগী ও রোগীর পরিবারকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। কোনো বিপদ হলে জরুরি সিজার করতে হতে পারে, সেই বিষয়ে রোগীর পরিবারকে রাজি থাকতে হবে।
সুষম পুষ্টির বিষয়ে চিকিৎসকরা বলেন, অতিরিক্ত ওজন বা খুব কম ওজন—দুইটিই গর্ভকালীন জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই হবু মায়ের ওজন বেশি হলে কমাতে হবে, কম থাকলে উচ্চতা অনুযায়ী বাড়াতে হবে। খাদ্য তালিকায় প্রচুর তাজা ফল, শাকসবজি, চর্বিহীন প্রোটিন, শর্করা, ভিটামিন ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়ামের মধ্যে হাঁটার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। স্বাভাবিকভাবে তিন সন্তান জন্ম দেওয়া জান্নাতুল মাওয়া জানান, চিকিৎসকরা তাকে প্রচুর হাঁটতে বলতেন—১৫ মিনিট হেঁটে পানি খেয়ে কিছুটা রেস্ট নিয়ে আবার ১৫ মিনিট হাঁটতে বলতেন। অধ্যাপক কাজল বলেন, স্বাভাবিক প্রসব ত্বরান্বিত করার জন্য স্কোয়াটিং, পেরিনিয়াল ম্যাসাজ, কেজেল এক্সারসাইজ, হিপ ওপেনিং ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পেরিনিয়াল ম্যাসেজ জরায়ুকে দ্রুত প্রসারিত করতে সাহায্য করে এবং চাপমুক্ত শ্রমের জন্য পেশী ও শরীরকে শিথিল করে।
প্রসব পরিকল্পনার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, প্রসবকালীন সময়ের শেষ মুহূর্তের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে। অধ্যাপক কাজল বলেন, প্রসব চলাকালীন যে কোনো বিপদের কারণে সিজার করা লাগতে পারে, এ বিষয়ে রোগী ও তার পরিবারকে আগেই অবহিত করতে হবে। একইসঙ্গে নবজাতক ও মায়ের সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসক পাওয়া যায় এমন হাসপাতাল বাছাই করা জরুরি। পরিবারের সদস্যদেরও প্রস্তুতি থাকতে হবে—ব্যথা ওঠার লক্ষণ, হাসপাতালে যাওয়ার উপায়, প্রয়োজনে রক্তদাতা ও আর্থিক যোগান আগেই ঠিক করে রাখতে হবে।
