২০২৫ সালে চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও সিটি ব্যাংক তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। এটি আগের বছরের তুলনায় ১১০ কোটি টাকা বা ৩১ শতাংশ বেশি।
ব্যাংকটির একক নিট মুনাফা ১ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা, এবং চার সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে আরও ১৮ কোটি টাকা নিট মুনাফা এসেছে। ব্যাংকের এই প্রবৃদ্ধির পেছনে আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা, শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং বিচক্ষণ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সিটি ব্যাংক এ তথ্য প্রকাশ করেছে। ২০২৫ সালে ঋণ থেকে সুদ আয় ২৪ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছর ছিল ৪ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। ব্যাংকটি সম্পদের গুণগত মান উন্নত করতে সক্ষম হয়েছে, শ্রেণীকৃত ঋণের হার ২.৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
অব্যাহত মুদ্রাস্ফীতির চাপের মধ্যে ব্যাংকটি আমানতের খরচ ৫.৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে পেরেছে। সরকারি সিকিউরিটিজে কৌশলগত বিনিয়োগ বাড়ানোর ফলে ৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার মোট পরিচালন আয়ের মধ্যে এ বিনিয়োগের অবদান ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
২০২৫ সালে দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮.০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ট্রেড ব্যবসা করেছে ব্যাংকটি, যার ফলে ট্রেড সার্ভিস থেকে কমিশন ও ফি আয় ৫২৬ কোটি টাকা হয়েছে। রিটেইল ব্যাংকিং ও কার্ড ব্যবসা থেকে এসেছে ৪৭১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ফি ও কমিশন আয় দাঁড়িয়েছে ৯৯৭ কোটি টাকা, যা মোট পরিচালন আয়ের ২১ শতাংশ।
ব্যয় দক্ষতার জন্য ব্যাংকটির আয়-ব্যয় অনুপাত ৪৪ শতাংশে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। ৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার আয়ের বিপরীতে মোট ব্যয় ২ হাজার ১৬০ কোটি টাকা হয়েছে। ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ব্যয় ৮১৫ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৬২৮ কোটি টাকা।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন বলেন, তুলনামূলক বেশি প্রভিশন ব্যয়ের কারণে নিট মুনাফা ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, ব্যাংকের সব কোর সেগমেন্ট থেকেই শক্তিশালী আয় আসছে।
এলসি ব্যবসায় নেতৃত্ব এবং আমানতের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার সক্ষমতাকে ব্যাংকের বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে কর্পোরেট এবং মাঝারি খাতের ঋণ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৮ হাজার কর্মীর একটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে ব্যয়-আয় অনুপাত ৪৫ শতাংশের নিচে ধরে রাখতে পারা প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বড় সাফল্য।
