হারাম ইনকামে ভয়াবহ পরিণতি হতে, কি বলছে ইসলাম?

হারাম ইনকামে ভয়াবহ পরিণতি হতে, কি বলছে ইসলাম?

ইসলামে উপার্জনের পবিত্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কী উপার্জন করছি তা নয়, কীভাবে উপার্জন করছি সেটিও বিবেচ্য। কোরআন ও হাদিসে হালাল রিজিকের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং হারাম উপার্জন থেকে সতর্ক করা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন, ‘হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র আছে তা থেকে আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না’ (সূরা আল-বাকারাহ: ১৬৮)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না’ (সহীহ মুসলিম)।

হারাম উপার্জনের প্রচলিত রূপগুলোর মধ্যে রয়েছে সুদ, ঘুষ, ভেজাল ও প্রতারণামূলক ব্যবসা, মিথ্যা ও জালিয়াতি, পেশাগত দায়িত্বে কারচুপি, এবং অনৈতিক ব্যবসা যেমন মাদক, জুয়া, অশ্লীলতা ইত্যাদি। সুদকে আল্লাহ হারাম করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে সুদ ত্যাগ না করলে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে (সূরা আল-বাকারাহ: ২৭৫-২৭৯)। ঘুষদাতা ও গ্রহীতার ওপর লানত এসেছে (সুনান আবু দাউদ)।

হারাম খাদ্য ও উপার্জনের ভয়াবহ প্রভাবের মধ্যে প্রথমটি হলো দোয়া কবুল না হওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তির উদাহরণ দিয়েছেন যার খাদ্য, পানীয় ও পোশাক সবই হারাম ছিল, তিনি বলেন, ‘তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?’ (সহীহ মুসলিম)। দ্বিতীয়ত, ইবাদতের নূর ও স্বাদ নষ্ট হয়। তৃতীয়ত, পরিবার ও সন্তানের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে। চতুর্থত, সম্পদের বরকত ধ্বংস হয়। পঞ্চমত, পরকালে কঠিন শাস্তি। হাদিসে এসেছে, ‘যে শরীর হারাম দ্বারা পুষ্ট হয়েছে, জাহান্নাম তার জন্য অধিক উপযুক্ত’ (মুসনাদ আহমাদ)।

তবে ইসলাম তওবার পথ খোলা রেখেছে। আন্তরিক তওবা, হারাম বর্জন, মানুষের হক ফিরিয়ে দেওয়া এবং হালাল জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন। আল্লাহ বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না’ (সূরা আত-তালাক: ২-৩)।

হালাল রিজিকের ফজিলত অপরিসীম। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দীক ও শহীদদের সাথে থাকবে’ (তিরমিযী)। তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত নিজের উপার্জনের উৎস যাচাই করা, হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং পরিবারকে হালাল রিজিকের ওপর গড়ে তোলা।

আরও পড়ুন