বাজেট ঘোষণার দিন এলেই দেশের অর্থমন্ত্রীর হাতে থাকা ব্রিফকেসের দিকে নজর পড়ে। অর্থমন্ত্রী বাজেট ঘোষণা করতে আসেন, কিন্তু ব্রিফকেসে থাকে মূলত একটি ছাপানো বক্তৃতা এবং দেশের আয়-ব্যয়ের বিশাল পরিকল্পনা।
এই ব্রিফকেসের পেছনে একটি মজার ইতিহাস রয়েছে। সাবেক অর্থ উপদেষ্টা আকবর আলি খানের বইয়ে বলা হয়েছে, আধুনিক বাজেট ব্যবস্থার সূচনা স্যার রবার্ট ওয়ালপুলের হাত ধরে হয়। ১৭২৫ থেকে ১৭৪২ সাল পর্যন্ত তিনি ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী ছিলেন এবং বাজেট তৈরির সময় চিঠিপত্রের মাধ্যমে পরামর্শগুলো নিজের মানিব্যাগে জমা রাখতেন।
শিল্পবিপ্লবের পর অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবের কাগজপত্রের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মানিব্যাগের বদলে ব্রিফকেস ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দেয়। ১৮৬০ সালে ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী উইলিয়াম ই. গ্ল্যাডস্টোন সোনা খোদাই করা একটি লাল স্যুটকেস ব্যবহার করেন, যা পরে দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহার হয়।
‘বাজেট’ শব্দটি এসেছে পুরোনো ফরাসি ‘ব্যুজেট’ থেকে, যার অর্থ ‘থলি’ বা ‘মানিব্যাগ’। অষ্টাদশ শতকে যুক্তরাজ্যে বাজেটের হিসাব থলিতে করে আনা হতো।
বাংলাদেশে ব্রিফকেসের ঐতিহ্য ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর শুরু হয়। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এবং আবুল মাল আবদুল মুহিতও ১২ বার করে বাজেট পেশ করেছেন। যদিও প্রথা অনুযায়ী ব্রিফকেস লাল হওয়ার কথা, তবে অর্থমন্ত্রীদের মাঝে মাঝে বিভিন্ন রঙের ব্রিফকেস দেখা যায়।
ব্রিফকেস ব্যবহারের মূল কারণ হলো গোপনীয়তা। বাজেটের তথ্য গোপন রাখা ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী হিউ ডাল্টন বাজেটের তথ্য ফাঁস করে পদত্যাগ করেন।
২০১৯ সালে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ব্রিফকেসের বদলে লাল কাপড়ে মোড়ানো ‘বহি-খাতা’ নিয়ে আসেন, যা উপনিবেশিক ধারা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা হিসেবে দেখা হয়। তবে আমাদের দেশে অর্থমন্ত্রীদের ব্রিফকেস হাতে উপস্থিতি এখনো একটি প্রতীক হয়ে রয়েছে।
