ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। চলতি মাসে এটি পিয়ংইয়ংয়ের চতুর্থ এবং বছরের সপ্তম ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সময়ে পিয়ংইয়ং বিশ্বকে জানাতে চাচ্ছে যে, তারা আত্মরক্ষায় সক্ষম। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা কিম কি-জং বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান যুদ্ধের সময় উত্তর কোরিয়া তাদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রোববার ভোর ৬টা ১০ মিনিটের দিকে উত্তর কোরিয়ার সিনপো শহর থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়। এগুলো প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সাগরে পড়ে। সিনপো শহরটি সাবমেরিন এবং সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
জাপান সরকার এই উৎক্ষেপণের খবর নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ‘ব্লু হাউস’ জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকে একে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলুশনের চরম লঙ্ঘন ও উসকানি হিসেবে অভিহিত করেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসিও সম্প্রতি সতর্ক করেছেন যে, উত্তর কোরিয়া তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সুবিধা বাড়িয়ে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ অগ্রগতি সাধন করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মি উং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, পিয়ংইয়ং নিজেদের সামরিক শক্তি জাহির করার কৌশল নিয়েছে। কিম জং উন গত মার্চে ঘোষণা করেছিলেন যে, পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার মর্যাদা এখন ‘অপরিবর্তনীয়’。
