যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের চাপের মুখে রয়েছেন।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন পিটার ম্যান্ডেলসন, যাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তা যাচাইয়ে তিনি অনুমোদন পাননি, তারপরও তাকে পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা চলছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতেন না। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার দাবি করেছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না এবং জানার পর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি সংসদে তথ্য স্বচ্ছভাবে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা অলি রবিন্স এই ঘটনায় দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন। ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সম্পর্ক থাকায় তাকে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি মনে করা হচ্ছে।
রক্ষণশীল পার্টির নেতা কেমি বাডেনোক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি জানতেন না এমন দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়। উদারপন্থী দলের নেতা এড ডেভি বলেছেন, যদি প্রধানমন্ত্রী ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন, তাহলে তাকে পদত্যাগ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার পদত্যাগের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান। ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে পুলিশ তদন্ত চলছে, তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নেই।
এই কেলেঙ্কারি যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় সংকট তৈরি করেছে। এখন প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই চাপের মুখে কতক্ষণ টিকতে পারবেন?
