সুইজারল্যান্ড তার জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমাবদ্ধ রাখতে গণভোটে যাচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা ১০ মিলিয়নের বেশি হবে না—এমন প্রস্তাবের পেছনে রয়েছে ডানপন্থী সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি)।
প্রস্তাবটি পাস হলে, জনসংখ্যা ৯৫ লাখে পৌঁছালে সরকারকে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এসবের মধ্যে অভিবাসী নিয়ন্ত্রণ, বিদেশি কর্মীদের পরিবারিক পুনর্মিলনের সুযোগ সীমিত করা এবং আবাসন অনুমতি কঠোর করার মতো ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এসভিপি দাবি করছে, নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসনের ফলে সুইজারল্যান্ড দ্রুত জনবহুল হয়ে উঠছে। ২০০২ সালে জনসংখ্যা ছিল ৭৩ লাখ, যা বর্তমানে প্রায় ৯১ লাখে দাঁড়িয়েছে। প্রস্তাবের সমর্থকদের মতে, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আবাসন সংকট, ভাড়া বৃদ্ধি, যানজট এবং সামাজিক সেবার ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে।
যদিও সরকার, পার্লামেন্টের অধিকাংশ দল ও ব্যবসায়ী সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, অভিবাসীদের দায়ী করে সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব নয়।
সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতি বিদেশি শ্রমিকদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। দেশটির শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ইকোনমিসুইসের প্রধান অর্থনীতিবিদ সতর্ক করেছেন যে, প্রস্তাব পাস হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, জনসংখ্যাবিদেরা বলছেন, দেশের জন্মহার কমছে এবং জনগণ দ্রুত বয়স্ক হয়ে উঠছে। ফলে নতুন কর্মীর প্রয়োজন বাড়ছে।
গণভোটের ফলাফল কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে, প্রায় ৫২ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন। তবে ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও সিদ্ধান্তহীন।
সুইজারল্যান্ডের এই গণভোট একটি বৃহত্তর প্রশ্নকে সামনে এনেছে—একটি দেশের জনসংখ্যা, অর্থনীতি, পরিবেশ ও জাতীয় পরিচয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে।
