গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ফল আম কখনও কখনও মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে। খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুরে সম্প্রতি আম খাওয়ার পর এক নারীর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে, এবং একই পরিবারের আরও চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাংলাদেশসহ ভারতেও আম খাওয়ার পর মারাত্মক অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণ করে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রথমত, বিষাক্ত কীটনাশক ও কার্বাইডের ব্যবহার। অসাধু ব্যবসায়ীরা আম পাকানোর জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করেন, যা মৃত্যুর প্রধান কারণ। অর্গানোফসফেট পয়জনিং এর ফলে স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত ঘটতে পারে, যা গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, আমের মারাত্মক অ্যালার্জি বা অ্যানাফিল্যাক্সিস। আম খাওয়ার পর ১৫ মিনিটের মধ্যে তীব্র অ্যালার্জিক রিয়্যাকশন দেখা দিতে পারে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট এবং রক্তচাপের হ্রাস ঘটতে পারে।
তৃতীয়ত, ডায়রিয়া ও ফুড পয়জনিং। বিশেষজ্ঞরা খুলনার ঘটনার জন্য ফুড পয়জনিং বা মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনকে দায়ী করছেন। পচা বা অতিরিক্ত নরম আম শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
আম খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু জরুরি সতর্কতা রয়েছে। আম কেনার পর সেটিকে অন্তত আধা ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখা, আমের বোঁটার অংশটি কেটে ধোয়া এবং অতিরিক্ত নরম বা পচা আম খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
যদি আম খাওয়ার পর শ্বাসকষ্ট, ঠোঁট-গলা ফুলে যাওয়া বা তীব্র পেটের ব্যথা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
