গাজীপুরের শ্রীপুরে বাকিতে পণ্য না দেওয়ায় একটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। এই হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মুলাইদ গ্রামের হাজী কাছম আলী ফকির সুপার মার্কেটের ‘নিউ জামালপুর গ্লাস অ্যান্ড থাই অ্যালুমিনিয়াম ফেক্সিকেটর’ নামের একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন ওই মার্কেটের মালিক হাজী কাছম আলী ফকিরের ছেলে কামাল ফকির, তার ভাগ্নে সিয়াম এবং দোকানের ব্যবস্থাপক শাহিন, কর্মচারী শান্ত ও শ্যামল। অন্যদিকে, অভিযুক্তরা হলেন কেওয়া গ্রামের নুরু কসাইয়ের ছেলে রানা ভান্ডারি ও তার ছোট ভাই মামুন।
দোকান মালিক ফয়সাল আহমেদ জানান, অভিযুক্ত রানা ভান্ডারি বিভিন্ন সময় তার দোকান থেকে মালামাল কিনতেন এবং তার কাছে আগের পাওনাও ছিল। গত ৯ মে রানা ৭২ হাজার টাকার থাই মালামাল কেনার জন্য এসে ৩০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করেন। মঙ্গলবার বাকি ৪২ হাজার টাকা পরিশোধ করে তার মাল নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে তিনি থাই গ্লাস নিতে এলে বকেয়া ৪২ হাজার টাকা চাওয়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রানা দোকানের কর্মচারী শ্যামলকে মারধর করেন। সে সময় স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
এর জের ধরে ওই দিন রাত ৮টার দিকে রানা ভান্ডারি ও তার ভাই মামুনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জন লোক সংঘবদ্ধ হয়ে দোকানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। তাদের বাধা দিতে গেলে মার্কেট মালিক কামাল ফকির, তার ভাগ্নে সিয়াম এবং দোকানের ম্যানেজার শাহিন ও শান্ত আহত হন। একপর্যায়ে দোকান মালিক ফয়সালকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়া হলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির আহমেদ জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
