রাজধানীর কলাবাগান এলাকার এক গৃহিণী পার্টটাইম জবের লোভনীয় বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে দুই লাখ আট হাজার ৮৬০ টাকা খুইয়েছেন। ১৩ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ধাপে ধাপে বিনিয়োগের পর শেষ দিকে লভ্যাংশ দেওয়া বন্ধ করে দেয় প্রতারক চক্রটি। পরে তিনি কলাবাগান থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
তদন্তে উঠে আসে, প্রতারকদের নেটওয়ার্ক ঢাকা থেকে মেহেরপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। গত ৭ মে ঢাকা থেকে সাঈদ মোহাম্মদ হাসানু জোহা ও নুরজাহান খাতুন নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের তথ্যে একই দিন ঢাকা থেকে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়—হৃদয় হাসান, মোহাম্মদ রাকিব, মো. রাশেদ, এমআই খাইরুল ও সাদিত হোসেন।
ডিবির একটি দল ৭ মে মেহেরপুরে যায় এবং ৮ মে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করে—রোহান আলী ওরফে রাকেশ, ফয়সাল আহমেদ ও মো. রনি মিয়া। তাদের কাছ থেকে তিনটি স্মার্টফোন, ১৭ হাজার ৪৪০ টাকা ও তিনটি সিম জব্দ করা হয়।
ডিবি জানায়, গ্রেফতাররা ফেসবুকে আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে আগ্রহীদের টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করত। তারপর ‘অনলাইন টাস্ক’ সম্পন্নের নামে ধাপে ধাপে টাকা বিনিয়োগে বাধ্য করত। শুরুতে লোভ দেখিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।
মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান জানান, ডিবির টিমকে স্থানীয় পুলিশ সহায়তা করেছে। গ্রেফতার সাঈদ মোহাম্মদ হাসানু জোহা ও নুরজাহান খাতুন স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের গ্রামের বাড়ি মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপির চাঁদবিল এলাকায়।
ডিবি জানায়, এটি একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্র, যা দীর্ঘদিন ধরে একই কৌশলে প্রতারণা করে আসছিল। গ্রেফতার ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত শুক্রবার গ্রেফতার তিনজনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত প্রত্যেকের এক দিন করে মোট তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
