জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের ঘটনায় আলোচনায় আসা ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত করেছে বিজিবি। প্রায় ২৪ ঘণ্টা নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানের পর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়েছে।
পুশইন হওয়া ওই ব্যক্তির নাম ষষ্ঠী বর্মন, তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চান্দলাই এলাকার বাবু চন্দ্র বর্মনের ছেলে। জানা গেছে, ষষ্ঠী বর্মন গত দুই মাস ধরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ ছিলেন। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের লোকজন তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরিচয় যাচাই-বাছাই করে তাকে সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘ওই বৃদ্ধের পরিচয় পাওয়ার পর তাকে থানায় আনা হয়েছে। রাজশাহী থেকে তার পরিবারের লোকজন আসছে। এখন তিনি আমাদের হেফাজতে রয়েছেন। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১০ জুন) সকালে বকশীগঞ্জের রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ পিলারের কাছে বিএসএফ পুশইনের চেষ্টা করে। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ হলে ওই ব্যক্তিকে শূন্য রেখায় ফেলে রেখে যায় বিএসএফ সদস্যরা। শূন্য রেখা থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়রা বাধা দেন। পরে ওই ব্যক্তি আবার শূন্য রেখায় চলে যায়। বিজিবি ও বিএসএফ এর মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও কোন পক্ষই ওই ব্যক্তিকে নিতে রাজি হননি। এরপর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
