রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) কেন্দ্রিক নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় শতাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠান মানহীন চিকিৎসা প্রদান করছে, যার ফলে রোগীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুরের মিন্টু চত্বর থেকে বিভিন্ন দিকে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভিড়। রোগীরা রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে দালালদের খপ্পরে পড়েন এবং এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হন। অনেক সময় সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
রাজশাহীতে স্বাস্থ্যসেবার নামে প্রতারণা এবং দালালদের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের রোগী ভাগিয়ে নিয়ে অপচিকিৎসার ঘটনা বেড়ে গেছে। ২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পুঠিয়ায় নিরাময় ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়। এমন আরও কয়েকটি ঘটনার অভিযোগ রয়েছে।
দালালরা রোগীদের রামেক হাসপাতালে চিকিৎসার ভুল তথ্য দিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করায়, যেখানে তারা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় অভিযান চালালেও দালালদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ১২০০টি শয্যা রয়েছে, কিন্তু রোগীর চাপ দুই থেকে তিনগুণ। ফলে শয্যা বৃদ্ধি প্রয়োজন। হাসপাতালের মুখপাত্র শঙ্কর কে বিশ্বাস জানান, বর্তমান জনবল দিয়ে দ্বিগুণ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রোগীরা দালালদের খপ্পরে পড়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন, এবং মানহীন ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেক রোগীর জীবন সংকটাপূর্ণ হয়ে ওঠে। রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যানবিদ নয়ন প্রামাণিক জানান, মানহীন ক্লিনিকগুলোকে সাময়িকভাবে বন্ধের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।
