খারগ দ্বীপকে ইরানের লাইফলাইন বলা হয় কেন?

খারগ দ্বীপকে ইরানের লাইফলাইন বলা হয় কেন?

খারগ দ্বীপকে ইরানের লাইফলাইন বলা হয় কারণ এটি দেশের তেল রপ্তানির কেন্দ্রবিন্দু। সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বোমা হামলার লক্ষ্য ছিল এই দ্বীপের সামরিক স্থাপনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামলার ফলে খারগের সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

এতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে, জানিয়ে দিয়েছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো ধ্বংস করবে। ট্রাম্প জানান, আপাতত খারগ দ্বীপের তেল অবকাঠামোর ওপর হামলার পরিকল্পনা নেই, তবে ইরান বা অন্য কেউ যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে তিনি এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন।

ইরানের দক্ষিণ উপকূলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে ১০০টিরও বেশি দ্বীপ রয়েছে, যার মধ্যে খারগ দ্বীপ প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এই দ্বীপে বিশাল তেল সংরক্ষণ ট্যাংক এবং একাধিক তেল লোডিং টার্মিনাল রয়েছে। বিশ্লেষকেরা জানান, ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ খারগ দ্বীপের টার্মিনাল থেকে বিশ্ববাজারে পাঠানো হয়।

ইরানের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল এবং খারগ দ্বীপ এই অর্থনীতির মূল কেন্দ্র। অতীতের ইরান–ইরাক যুদ্ধের সময়ও খারগ দ্বীপ ছিল ইরাকি বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে, আঞ্চলিক সংঘাত বৃদ্ধি পেলে এই দ্বীপ আবারও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্ববাজারের জন্যও খারগ দ্বীপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়, যা পারস্য উপসাগরের তেল সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বড় কেন্দ্র। খারগ দ্বীপের কার্যক্রম ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। এই কারণেই আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা খারগ দ্বীপকে ইরানের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন