যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ‘তাজমহল’ হিসেবে পরিচিত গোলেস্তান প্রাসাদসহ অন্তত ৫৬টি সাংস্কৃতিক স্থাপনা গুরুতর কাঠামোগত ক্ষতির শিকার হয়েছে।
ইরানের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব স্থাপনার মধ্যে জাদুঘর ও ঐতিহাসিক নিদর্শনও রয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএ–তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় এসব সাংস্কৃতিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তেহরান প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ১৯টি ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়া, ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশের অন্তত ১২টি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শনও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় গোলেস্তান প্রাসাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তেহরানের ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই প্রাসাদটি ইরানের রাজকীয় অতীতের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
গোলেস্তান প্রাসাদ, যা ‘ফুলের প্রাসাদ’ নামেও পরিচিত, একসময় কাজার রাজবংশের ক্ষমতার কেন্দ্র ছিল। বর্তমানে যে স্থাপত্য কমপ্লেক্সটি দেখা যায়, তার বেশিরভাগ অংশ উনিশ শতকে গড়ে ওঠে। এই প্রাসাদটি পারস্যের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের সঙ্গে ইউরোপীয় নব্য-শাস্ত্রীয় স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণ নিয়ে গঠিত।
২০১৩ সালে ইউনেস্কো গোলেস্তান প্রাসাদকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এটি আজও ইরানি শিল্পী ও স্থপতিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণার স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলায় গোলেস্তান প্রাসাদ ও তেহরানের বিখ্যাত গ্র্যান্ড বাজারের মতো আরও কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইউনেস্কোর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও করেছে ইরান।
