মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি দ্রুত অবনতিশীল সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সংঘাতের ওপর ‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন’ এবং এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে পুরো অঞ্চলকে সহিংসতার ঘূর্ণাবর্তে ফেলে দিয়েছে।
মারফি বলেন, ট্রাম্প ইরানের পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা সম্পর্কে মারাত্মক ভুল ধারণা পোষণ করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালিতে সংকট শুরু হয়েছে, যেখানে বিশ্বের ২০ শতাংশেরও বেশি তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। মারফি সতর্ক করেছেন যে, তেহরান হরমুজ প্রণালির সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত করার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা ভুল ছিল।
সিনেটর মারফি বলেন, ইরানের ড্রোন, স্পিডবোট ও সামুদ্রিক মাইন ব্যবহারের কারণে ওই নৌপথ সুরক্ষিত রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরান আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তেল স্থাপনাগুলোতে আঘাত করতে সক্ষম।
মারফি আরো বলেন, যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহের দিকে ইসরাইল জানিয়েছে যে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থা ফুরিয়ে আসছে। এই সংঘাত ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে, যেখানে লেবাননে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো ইসরাইলকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং ইরাকে থাকা গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করছে।
তিনি সতর্ক করেন যে, ইয়েমেনের হুতিরা তুলনামূলক শান্ত রয়েছে, কিন্তু তারা লোহিত সাগরে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে পারে। সিরিয়ায়ও সহিংসতার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। মারফি বলেন, ট্রাম্পের কোনও ‘এন্ডগেম’ নেই এবং ইরান ও তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে থাকবে।
মারফি প্রশাসনকে এই যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এর সবকিছুই সম্পূর্ণরূপে অনুমানযোগ্য ছিল। আগের প্রেসিডেন্টরা এ ধরনের যুদ্ধ শুরু করার মতো বোকামি করেননি।’ তিনি জানান, ট্রাম্পের জন্য এখন সেরা পথ হলো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা এবং এটি শেষ করা।
