বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলের ইতিহাসে ২০২৬ সাল এক চরম অনিশ্চয়তার বছর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাতের ফলে বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ যাত্রীদের ওপর এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলায় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছানোর ফলে বিমান সংস্থাগুলোর জ্বালানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের সিইও স্কট কিরবি জানিয়েছেন, ভাড়ার ওপর এই প্রভাব খুব দ্রুতই শুরু হবে। গত বৃহস্পতিবার তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলারে পৌঁছালেও সপ্তাহের শেষ দিকে এটি সামান্য কমে ৯৯ ডলারে নেমে আসে।
এই যুদ্ধের কারণে আকাশপথে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। বিমান চলাচল সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সিরিয়াম’ জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এদিকে, জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রব ব্রিটন বলছেন, জ্বালানি খরচ বাড়লে বিমানের ভাড়া বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে, বিমান সংস্থাগুলো সবসময় বাড়তি খরচ যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। এভিয়েশন নিউজলেটার ‘ফ্রম দ্য ট্রে টেবিল’-এর লেখক জ্যাক গ্রিফ জানিয়েছেন, টিকিটের চাহিদাই মূলত ভাড়া নির্ধারণ করে। যদি মুদ্রাস্ফীতি বা বেকারত্ব বাড়ে, তবে ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিমান সংস্থাগুলোকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম অনেক ফ্লাইটের লাভজনকতা কমিয়ে ফেলছে, ফলে বিমান সংস্থাগুলো রুট বন্ধ করার কথাও ভাবছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি স্পিরিট এয়ারলাইন্সের মতো বাজেট ক্যারিয়ারগুলো বাজার থেকে সরে যায়, তবে বড় বিমান সংস্থাগুলো নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ পাবে।
এদিকে, জ্বালানি খরচ কমানোর জন্য বিমান সংস্থাগুলো আধুনিকায়ন ও বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। আসন্ন গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ভ্রমণের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে, তাই টিকিটের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যাত্রীদের এখনই রিফান্ডযোগ্য বা পরিবর্তনযোগ্য টিকেট বুক করে রাখার জন্য।
ডেল্টা এয়ারলাইন্সের নিজস্ব তেল শোধনাগার থাকায় তাদের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হয় এবং বাড়তি খরচ থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়।
