চাঁদের পেছনে ৪০ মিনিট যোগাযোগহীন থাকবেন আর্টেমিস নভোচারীরা

চাঁদের পেছনে ৪০ মিনিট যোগাযোগহীন থাকবেন আর্টেমিস নভোচারীরা

আর্টেমিস–২ মিশনের নভোচারীরা সোমবার যুক্তরাজ্যের সময় রাত প্রায় ১১টা ৪৭ মিনিটে চাঁদের পেছনে চলে যাবেন। তখন চাঁদের বাধায় রেডিও ও লেজার সংকেত ব্লক হয়ে প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে চারজন নভোচারী মহাশূন্যের অন্ধকারে একা ভ্রমণ করবেন। আর্টেমিস পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেছেন, আমরা যখন চাঁদের পেছনে যাব তখন বিশ্ববাসী আমাদের জন্য প্রার্থনা করবেন, যেন আমরা আবার পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি।

৫০ বছরেরও বেশি আগে অ্যাপোলো ১১-এর নভোচারী মাইকেল কলিন্সও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালে চাঁদের দূরের পাশে যাওয়ায় তার মহাকাশযানের যোগাযোগ ৪৮ মিনিটের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। কলিন্স তার স্মৃতিকথায় লিখেছেন, তার মনে হয়েছিল তিনি খুব ‘একা’ ও ‘জীবন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন’।

পৃথিবীতে, এই ব্ল্যাকআউট সময়টি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ হবে। ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে অবস্থিত গুনহিলি আর্থ স্টেশনের একটি বিশাল অ্যান্টেনা অরিয়ন ক্যাপসুল থেকে সংকেত সংগ্রহ করছে এবং তথ্য নাসার সদর দপ্তরে পাঠাচ্ছে।

গুনহিলির টেকনোলজি প্রধান ম্যাট কোসবি বলেছেন, ‘আমরা প্রথমবার মানুষ বহনকারী স্পেসক্রাফট ট্র্যাক করছি। যখন এটি চাঁদের পেছনে যাবে, তখন কিছুটা নার্ভাস হয়ে যাব। কিন্তু যখন আবার তাদের দেখা পাব তখন নিশ্চয়ই খুবই উত্তেজিত হব, কারণ আমরা জানব সবাই নিরাপদ আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী উপস্থিতি গড়তে ২৪ ঘণ্টার যোগাযোগ থাকা অত্যাবশ্যক। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির মুনলাইট প্রোগ্রামের মতো প্রকল্পগুলো ভবিষ্যতে চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরি করবে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সময়ে আর্টেমিস নভোচারীরা চাঁদকে পর্যবেক্ষণ করবেন, ছবি তুলবেন এবং ভূতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করবেন। যখন তারা চাঁদের ছায়া থেকে বের হয়ে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করবেন, তখন পুরো পৃথিবী যেন নিশ্বাস ফেলবে।

আরও পড়ুন