ইরানের দাবি মেনে যুদ্ধবিরতি, ট্রাম্পের ‘জয়’ নিয়ে প্রশ্ন

ইরানের দাবি মেনে যুদ্ধবিরতি, ট্রাম্পের ‘জয়’ নিয়ে প্রশ্ন

ইরানের প্রস্তাবিত ১০টি দাবির সবকয়টি মেনে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। ওয়াশিংটন ডিসি এই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের ‘জয়’ হিসেবে দেখলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এর জন্য বহুমূল্য চোকাতে হতে পারে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক লক্ষ্য পূরণ করেছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে। তবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান ও মিসাইল ভাণ্ডার অজানা থেকে গেছে। এছাড়া ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মতো আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর ওপর ইরানের প্রভাব এখনো রয়েছে।

এই চুক্তি ট্রাম্পকে একটি কঠিন সিদ্ধান্ত থেকে সাময়িকভাবে বেরিয়ে আসার সুযোগ দিয়েছে। তার সামনে দুটি পথ খোলা ছিল—হয় ভয়াবহ হামলা চালানো, নয়তো পিছু হটে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা। আগামী দুই সপ্তাহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চালিয়ে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।

যুদ্ধবিরতির পর তেলের দাম কয়েক দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে এবং মার্কিন শেয়ারবাজারের ফিউচার বেড়েছে। মঙ্গলবার সকালেও এমন অগ্রগতি অনিশ্চিত ছিল।

মঙ্গলবার ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসম্যান জোয়াকুইন কাস্ট্রো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নেতৃত্ব দেওয়ার উপযুক্ত নন।’ সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক স্মাহুমার বলেন, রিপাবলিকানরা যদি যুদ্ধ বন্ধে ভোট না দেয়, তবে তার ফলাফলের দায় তাদেরই নিতে হবে।

ট্রাম্পের নিজ দলের মধ্যেও সবাই তার পাশে দাঁড়াননি। জর্জিয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান অস্টিন স্কট ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘উল্টো ফলদায়ক’ বলেছেন। উইসকনসিনের সিনেটর রন জনসন সতর্ক করে বলেন, বোমা হামলা চালানো ‘বড় ভুল’ হবে।

জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া, দলের ভেতরে সমালোচনা এবং জ্বালানি দামের কারণে অর্থনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে এই যুদ্ধবিরতি ট্রাম্পের জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছে। ট্রাম্পকে দেওয়া এই পরিকল্পনায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রাখা।

এই মুহূর্তে এটি ট্রাম্পের জন্য আংশিক রাজনৈতিক জয়। কঠোর হুমকি দিয়ে তিনি কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়েছেন। তবে এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী সমাধান নয়—এটি কেবল সাময়িক বিরতি। দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধ ও ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রভাব কী হবে, তা এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি।

আরও পড়ুন