যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পর লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮৯ জন নিহত এবং ৭০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার তারা লেবাননজুড়ে একযোগে সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে। হামলাগুলো রাজধানী বৈরুত, বেকা ভ্যালি এবং দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগে বলেছিলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, এই হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর অবকাঠামো। তার দাবি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে ১০০টির বেশি কমান্ড সেন্টার ও সামরিক স্থাপনায় আঘাত করা হয়।
তবে এসব হামলার অনেকগুলোই বেসামরিক মানুষের বসবাসস্থল ছিল। এতে শহরের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, আহতরা হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করে।
লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছিল, প্রায় ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স আহতদের হাসপাতালে নিতে কাজ করছে। হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যে রোগীতে ভরে গেছে।
ইসরায়েল আবারও কিছু এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে এবং সতর্ক করেছে—যুদ্ধ এখনো চলছে, তাই মানুষকে সরে যেতে হবে।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এই হামলার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ইসরায়েল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা চালিয়ে ‘নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষকে’ হত্যা করছে।
মার্চ ২ থেকে শুরু হওয়া হামলায় এখন পর্যন্ত লেবাননে ১,৫৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১২ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।
