নেতৃত্বের কোনো ‘শর্টকাট’ রাস্তা নেই

নেতৃত্বের কোনো ‘শর্টকাট’ রাস্তা নেই

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন নিয়ে পুরনো প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্রীড়াঙ্গন রাজনীতিমুক্ত হবে বলে আশা করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

গত বছর বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মঙ্গলবার আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেয়। তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনে গতিশীলতা কাম্য হলেও দীর্ঘসূত্রতা যেখানে সাধারণ নিয়ম, সেখানে এমন তৎপরতা সংস্কারের প্রচেষ্টা নাকি ক্ষমতার হাতবদল—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সাবেক ক্রিকেটাররা বিসিবি প্রশাসনে জড়িয়ে পড়ায় মাঠের সাফল্য ও সংগঠন চালানোর মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হচ্ছে। ২০১৩ সালে নাজমুল হাসান পাপন ক্রিকেটারদের জন্য কাউন্সিলর কোটা বাড়ালেও ক্রিকেট প্রশাসন পেশাদার হয়নি। বরং অনেক সাবেক খেলোয়াড় ক্ষমতার মোহে অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ হয়ে গেছেন।

ফারুক আহমেদ প্রধান নির্বাচক থাকার সময় তার নীতিনৈতিকতা প্রশংসা পেলেও বিসিবি সভাপতি হয়ে রাজনৈতিক স্রোতে গা ভাসান। তার সময় শেষ হয় আপস, বিতর্ক ও অপসারণ দিয়ে। আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বললেও ক্ষমতায় এসে টি-টোয়েন্টির মানসিকতায় টেস্ট খেলার মতো এলোপাথাড়ি সিদ্ধান্ত নেন।

বুলবুলের সময় বিসিবির স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চেতনা ভূলুণ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশ একটি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হারায়। তার বিদায়ের পর তামিম ইকবালের দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিসিবি প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের ভিড় ও স্লোগান দেখা গেছে। যখন কোনো পদে বসার জন্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বদলে ওপর মহলের ‘দোয়া’ লাগে, তখন সেই পদের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ক্রিকেটারদের উচিত মাঠের গৌরব যেন প্রশাসনিক চেয়ারের লোভে ধুলোয় না মেশে। সত্যিকারের সংস্কার চাইলে স্বচ্ছতা, আদর্শ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জবাবদিহিতার কোনো বিকল্প নেই। তামিম ইকবাল এখন এক কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি ইতিহাস বদলে দিতে পারেন অথবা পূর্বসূরিদের মতো রাজনীতির ঘেরাটোপে হারিয়ে যেতে পারেন। দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত ক্রিকেটের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে কিনা, তা সময়ই বলবে।

আরও পড়ুন