মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক কূটনীতির টানাপোড়েনের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার লক্ষ্যে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এই সংঘাতে বহু দেশে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে।
এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে, যেখানে যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইরান চলাচল সীমিত করে দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যদিও উভয় পক্ষের মধ্যে শর্ত ব্যাখ্যায় পার্থক্য রয়েছে। ইসলামাবাদে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শনিবার শুরু হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টারা। অপরদিকে, ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনা ‘শাটল ডিপ্লোমেসি’ পদ্ধতিতে হবে, যেখানে দুই পক্ষ আলাদা কক্ষে অবস্থান করবেন। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবেন।
আলোচনার মূল এজেন্ডায় যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা, সংঘাতের স্থায়ী সমাধান এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর বিষয়গুলো থাকবে। তবে, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আলোচনা চলাকালীন সংঘাত তীব্র হওয়ার নজির রয়েছে।
এই আলোচনার ফলাফল শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর প্রভাব পড়বে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।
বর্তমানে সত্যিই ‘সব চোখ পাকিস্তানে’ আছে বলে মনে করা হচ্ছে।
