রাজশাহীতে পূর্বশত্রুতার জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোরে দুর্গাপুর উপজেলার কয়ামাজমপুর গ্রামে মাছচাষি আনোয়ার সাহাদত হোসেনের পুকুরে এই বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই দিন দুপুরে থানায় মামলা করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন- আনিছুর রহমান আঞ্জু (৫০), আশিকুর রহমান সোহাগ (২৫), মো. রবিন (২৪), পিচ্ছি সেলিম, আতিকুর রহমান (৫), খোকন (২৭), মো. ফিজার (২৬)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কয়ামাজমপুরে সাহাদত প্রায় ৪৭ বিঘার একটি পুকুর লিজ নিয়ে গত ১ জানুয়ারি থেকে মাছ চাষ করছেন। পূর্বশত্রুতা ও মনোমালিন্যের জেরে আসামিরা গত ৩০ মার্চ দুপুর ১২টায় তার পুকুর পাড়ে রক্ষিত ঘর ভাঙচুর করে এবং ঘরে রক্ষিত প্রায় ৫০ বস্তা মাছের খাবার ও প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাছের ওষুধ নষ্ট করে। পুকুরের পাহারাদার মো. রানার কাছ থেকে ঘরের চাবি কেড়ে নেয়।
গত ১৩ এপ্রিল ভোর ৪টার দিকে আসামিরা পুকুরের রাত্রিকালীন পাহারাদার আব্দুল্লাহিল কাফি (৩০), মো. বুলবুল (৪২), মো. আলমগীকে ধারালো হাঁসুয়া, চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। আসামিরা ২৭ থেকে ৩০ কোটা বিষের ট্যাবলেট পুকুরে ছিটিয়ে দেয়। বিষ প্রয়োগের ফলে প্রায় সব মাছ মরে যায় এবং এতে প্রায় ৭৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
এর আগে ৭ এপ্রিল কয়ামাজমপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ২০ মার্চ গোপালপুর বাজারে শান্ত নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করেন সোহাগ ও তার সহযোগীরা। কয়েকদিন পর ৩০ মার্চ কয়ামাজমপুর হাইস্কুল মাঠ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৩০টি ভ্যান ও ১০টি মোটরসাইকেল আটক করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।
মাছচাষি আনোয়ার সাহাদত হোসেন বলেন, কিছুদিন ধরে তারা আমার কাছে পুকুরে বিষ প্রয়োগের হুমকি দিয়ে আসছিল। তাদের এই ক্ষতি আমি মেনে নিতে পারছি না। তারা এলাকার মানুষের মধ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। আমি তাদের বিচার চাই।
মাসুদ পারভেজ বলেন, সোহাগ ও তার সহযোগীরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অপহরণ, চুরি-ডাকাতি করে আসছে। তিনি দাবি করেন, সোহাগ ঢাকার নিউমার্কেট এলাকার ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, আশিকুর রহমান সোহাগ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছে। পুকুরে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ সাজানো নাটক বলেও তিনি জানান।
দুর্গাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, পুকুরে বিষ দেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং আসামির মধ্যে সোহাগের নাম রয়েছে।
