ঘর দেওয়ার কথা বলে ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ঘর দেওয়ার কথা বলে ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় পাকা ঘর দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি প্রথমে ৩০০ টাকার বিনিময়ে ২০টি পরিবারের মাঝে টিউবওয়েল স্থাপনের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করেন। পরে ৩৬৫টি পরিবারের কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেন তিনি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ মার্চ) দুপুরে পলাশবাড়ী পৌরশহরের উদয়সাগর হাজীপাড়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তুলে ধরেন গাইবান্ধা জামিয়া ইসলামিয়া আসমা মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ মো. আল আমিন। অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বগুড়া সদরের বৃন্দাবন পশ্চিম পাড়ার আকবার আলীর ছেলে।

লিখিত বক্তব্যে আল আমিন জানান, প্রায় তিন বছর আগে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয় হয়। শহিদুল স্থানীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার পর জনপ্রতি মাত্র ৩০০ টাকা নিয়ে ২০টি পরিবারে টিউবওয়েল স্থাপন করেন। এরপর তিনি ৩৬৫টি পরিবারের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫ হাজার করে মোট ৫৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে এবং বাকি ৪৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নগদে গ্রহণ করা হয়। পরে কাঠ ও নির্মাণ সামগ্রী ক্রয়ের কথা বলে আরও ১০ লাখ টাকা নেন শহিদুল। সব মিলিয়ে ৬৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। শহিদুল ইসলাম শুধু নিজের ব্যাংক হিসাবে নয়, তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা, ছেলে সালাউদ্দিন ও মেয়ে সুমাইয়া বেগমের ব্যাংক হিসাবেও টাকা গ্রহণ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্ধারিত সময় পার হলেও কোনো ঘর না পেয়ে ভুক্তভোগীরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আল আমিন ইসলাম বাদী হয়ে গাইবান্ধা আমলি আদালতে শহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন (সি আর-৮০/২০২৬)। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আত্মসাতকৃত অর্থ উদ্ধার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী জিয়াউল ইসলাম পারভেজ, শরিফুল ইসলাম, আব্দুল হান্নান, সোহেল রানা, হাবিবুর রহমান ও লাভলু মিয়া।

আরও পড়ুন