হরমুজ প্রণালি ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে জাহাজ থেকে নিরাপদে চলাচলের জন্য টোল আদায়ের চেষ্টা করছে ইরান। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে টোল আদায় করতে পারে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হরমুজ প্রণালি হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যা পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত এবং বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালীর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার (১০৪ মাইল) এবং এর সবচেয়ে সরু অংশে ঢোকা ও বের হওয়ার জন্য আলাদা দুটি চ্যানেল রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর ইরান কার্যত এই প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে টোল আদায়ের অধিকার দাবি করে। তবে এ ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সমুদ্রপথ ব্যবহারের আন্তর্জাতিক আইন হলো ‘জাতিসংঘ সমুদ্র আইন সনদ’ (ইউএনসিএলওএস), যা ১৯৮২ সালে গৃহীত হয় এবং ১৯৯৪ সাল থেকে কার্যকর। এই আইনের ৩৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিসহ বিশ্বের ১০০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি দিয়ে জাহাজের বাধাহীন চলাচলের অধিকার রয়েছে।
এছাড়া কোনো দেশ তার আঞ্চলিক জলসীমা (সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল) পর্যন্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তবে সেখানে ‘নিরীহ চলাচল’ বাধা দেওয়া যাবে না। ইরান দাবি করে, তারা এই নিয়মের বিরোধিতা করেছে, তাই তাদের ক্ষেত্রে তা বাধ্যতামূলক নয়।
এই আইন বাস্তবায়নের জন্য সরাসরি কোনো শক্তিশালী ব্যবস্থা নেই। তবে কিছু বিকল্প পদক্ষেপ রয়েছে, যেমন এক বা একাধিক দেশ মিলে এই নিয়ম কার্যকর করার চেষ্টা করা এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ টোলের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস করা।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও আইনের একটি জটিল ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
