বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে হামের উপসর্গ নিয়ে ২ ম্রো শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রিংলতপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে, তবে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় মোবাইল বা টেলিফোন নেটওয়ার্ক নেই, ফলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে দেরি হয়। আলীকদমের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, ‘দুই শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে বলে খবর পেয়েছি। তবে তারা হাম রোগে মারা গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।’
মারা যাওয়া দুই ম্রো শিশু হলো কুরুকপাতা ইউনিয়নের রিংলতপাড়ার ৩ মাস বয়সী মেয়ে জং রুং ম্রো ও ৭ মাস বয়সী ছেলে খতং ম্রো। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, দুই শিশুর জ্বর ও শরীরে ছোট ছোট ফোসকা ছিল। বর্তমানে ওই এলাকায় আরও ৪ শিশুসহ মোট ৬ শিশু আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
রিংলতপাড়ার বাসিন্দা তনওয়াই ম্রো জানান, তার ছোটবোন কনক্রাত ম্রোকে বুধবার আলীকদম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই গ্রাম থেকে আরও ৩ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়াও, রিংলতপাড়াসহ আরও ৩ পাড়ায় হাম আক্রান্ত অন্তত ২০-৩০ শিশু আছে, যাদের এখনো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি।
কুরুকপাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্রাত পুং ম্রো বলেন, ‘মৃত শিশুদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমি উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি।’
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাসান জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ৪ জন কুরুকপাতা ইউনিয়নের দুর্গম এলাকার। পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য ওই এলাকায় আজ সকালে ৪ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘এখনো জেলায় নিশ্চিতভাবে হামের কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে কুরুকপাতা ইউনিয়নে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। বিষয়টি পর্যবেক্ষণে আছে।’
