যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন না হওয়ায় ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে জনজীবন বিপদে পড়ার পাশাপাশি পারস্য উপসাগরের প্রাকৃতিক পরিবেশও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
বহু বিতর্কিত হরমুজ প্রণালিতে ডলফিন ও বৈচিত্র্যময় প্রবাল প্রাচীর রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, চলমান সংঘাতের কারণে এই পানির নিচের জগৎ হুমকির মুখে পড়েছে। অভিবাসন করা তিমি হাঙ্গররা ঋতুভেদে এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে, যেখানে ইন্দো-প্যাসিফিক হাম্পব্যাক ডলফিন ও বটলনোজ ডলফিন বাস করে।
পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসের মুখপাত্র নিনা নোয়েল জানান, তাদের গবেষকেরা এ অঞ্চলে তেলের স্তর শনাক্ত করছেন। মার্চের শুরুতে একটি ইরানি জাহাজে হামলার পর তেল ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। সংস্থাটির মতে, জাহাজটি এখনও খুরান প্রণালির কাছে তেল ছড়াচ্ছে, যা আশপাশের সংরক্ষিত জলাভূমির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ইরান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির সময় প্রণালিটি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার জাহাজ উপসাগরে আটকে ছিল, যেগুলোর মধ্যে মোট প্রায় ২১ বিলিয়ন লিটার তেল রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে অন্তত ১৬টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হরমুজ প্রণালী শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, পরিবেশগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি গভীর ও ঠান্ডা ওমান উপসাগর এবং অগভীর ও উষ্ণ পারস্য উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত। এখানকার স্রোত পুষ্টি উপাদান বহন করে, যা প্ল্যাংকটন, প্রবাল ও বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী মার্টিন গ্রোসেল জানান, অপরিশোধিত তেলের রাসায়নিক উপাদান প্রাণীদের হৃদযন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ওপর প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, তেলের সংস্পর্শে থাকলে প্রাণীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে তারা সহজেই রোগে আক্রান্ত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেল শুধু পানির ওপর ভেসে থাকে না, বরং ঢেউয়ের কারণে ছোট কণায় ভেঙে সমুদ্রের গভীরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে থাকা রাসায়নিক উপাদান মাছের প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, প্রণালীতে যত বেশি জাহাজ আটকে থাকবে, তত বেশি তেল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।
সূত্র: সিএনএন
