ইরানে মার্কিন নৌ-বাহিনীর জাহাজে ড্রোন হামলা

ইরানে মার্কিন নৌ-বাহিনীর জাহাজে ড্রোন হামলা

ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-বাহিনীর জাহাজে ইরান ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই তথ্য জানায়। হামলাটি মার্কিন নৌ-বাহিনী তৌস্কা নামে একটি ইরানের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করার পর হয়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ছয় ঘণ্টা ধরে ‘বারবার সতর্ক বার্তা দেওয়ার পরও কোনো সাড়া না দেওয়ায়’ ইউএসএস স্প্রুয়েন্স জাহাজটি ‘তৌস্কার প্রপালশন বা চালিকাশক্তি বিকল করে দেয়।’ এরপর ইউএসএস ত্রিপোলি নামক যুদ্ধজাহাজ থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে নাবিকরা তৌস্কা জাহাজে নামেন।

জাহাজটির অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) অনুযায়ী, গত ১২ই এপ্রিল মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং থেকে যাত্রা শুরু করে এটি দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের চাবাহার বন্দর থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করায় জাহাজটিকে ‘যথাযথ সতর্কবাণী’ দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘ইরানি নাবিকরা কথা শুনতে অস্বীকার করেছিল তাই আমাদের নৌ-বাহিনী তাদের ইঞ্জিন রুমে ছিদ্র করে দিয়ে তাদের মাঝপথে থামিয়ে দিয়েছে।’ বর্তমানে ২৯০ মিটার দীর্ঘ এই ইরানি জাহাজটি মার্কিন নৌ-বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জাহাজটি আগে থেকেই মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল এবং বর্তমানে মার্কিন নৌ-বাহিনী এতে কী আছে সেটি তল্লাশি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের এই সিদ্ধান্ত যুদ্ধের প্রাচীন কৌশলকে পুনরায় আলোচনায় এনেছে, যা কোনো দেশের অর্থনীতি দুর্বল করতে এবং প্রতিপক্ষকে নতি স্বীকারে বাধ্য করার লক্ষ্য রাখে।

ইতিহাসে দেখা গেছে যে, নৌ-অবরোধ চাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর হলেও এর সামগ্রিক প্রভাব জটিল। অনেক ক্ষেত্রে, নৌ-অবরোধগুলো একটি দেশের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে বড় ভূমিকা পালন করেছে, তবে গাজা ও ইয়েমেনে ব্লকেডের ঘটনা মানবিক সংকটকে গভীর করেছে।

আরও পড়ুন