যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের তেল বিক্রির ৫০ কোটি ডলারের নগদ চালান আটকালেছে। ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকনোট বহনকারী একটি উড়োজাহাজকে অর্থ সরবরাহ করতে বাধা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এটি বাগদাদের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ থেকে এই নগদ চালান আসার কথা ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর গঠিত ব্যবস্থার আওতায় ইরাকের তেল রপ্তানির আয়ের একটি বড় অংশ নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত থাকে, ফলে দেশটির আর্থিক প্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব দীর্ঘকালীন।
ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দেশে মার্কিন ডলারের কোনো ঘাটতি নেই এবং ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর সব চাহিদা পূরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থায়নও স্থগিত করেছে, যার মধ্যে ইরাকি সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং ইসলামিক স্টেট বিরোধী কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত।
এক জ্যেষ্ঠ ইরাকি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি বাগদাদে পৌঁছেছেন আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে। তিনি সেখানে রাজনৈতিক নেতা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের উত্থানের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা সেই সহযোগিতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
এক ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন স্বার্থে হামলা চালানো গোষ্ঠীগুলোর কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
