রাশিয়ার ঘোষিত যুদ্ধবিরতির ঠিক আগে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ইউক্রেনের পাল্টা ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ক্রিমিয়া ও চুভাশিয়া অঞ্চলে ৭ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলাগুলো পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
মঙ্গলবার জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে রুশ গ্লাইড বোমা হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির গভর্নর ইভান ফেদেরভ। দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর ক্রামাতোরস্কে আরও ৬ জনের মৃত্যু ও ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দিনিপ্রো শহরে ৪ জন নিহত হয়েছেন।
নাফতোগাজের সিইও সেরহি কোরেৎস্কি জানিয়েছেন, পোলতাভা ও খারকিভ অঞ্চলের গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন কারখানা কর্মী ও দুইজন উদ্ধারকর্মী রয়েছেন। এই হামলায় গ্যাস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৩৫০০ গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি রাশিয়ার এই হামলাকে ‘নির্মম ও সেন্সলেস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, একদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে অন্যদিকে হামলা চালানো সম্পূর্ণ ভণ্ডামি। রাশিয়া ৮-৯ মে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় দিবস উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। তবে ইউক্রেন দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও মস্কো এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।
পাল্টা হামলায় ইউক্রেনের ড্রোন আক্রমণে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় পাঁচজন এবং রাশিয়ার চুভাশিয়া অঞ্চলে দুইজন নিহত হয়েছেন। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ৯৩টি ড্রোন প্রতিরোধ করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতির আগে উভয় পক্ষের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
