চট্টগ্রামে বিপ্লব দে পার্থ (৩৩) নামে এক সাংবাদিকের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। অন্যথায় তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৯ মে) এ ঘটনায় নগরের কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী বিপ্লব দে পার্থ।
বিপ্লব দে একটি বেসরকারি টিভির চট্টগ্রাম কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বেও রয়েছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত মোবারক হোসেন ওরফে ইমনকে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, শনিবার বিকেল ৪টা ৫২ মিনিটে কোতোয়ালির কাজীর দেউড়ি এলাকায় অবস্থানকালে বিপ্লব দে পার্থের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে একটি বিদেশি নম্বর থেকে কল আসে। এটি রিসিভ করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে বড় সাজ্জাদের ছোট ভাই ডেভিড ইমন পরিচয় দেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লোক আখ্যা দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে বিপ্লব দে পার্থ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘বড় সাজ্জাদের কথা বলে অভিযুক্ত ব্যক্তি আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। তিনি আমাকে বলেছেন আমি নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছের লোক। আমি প্রচুর টাকা ইনকাম করি। তাদের অনেক লোক কারাগারে রয়েছেন। আমি যাতে তাদেরকে টাকা দেই। আমি টাকা দিতে অপারগতা জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে একটি অডিও বার্তাও পাঠান।’
ওই বার্তায় তিনি বলেন, পুরো শরীরে এমনভাবে গুলি করা হবে যে পরিবারও মরদেহ শনাক্ত করতে পারবে না। যা করার, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করতে হবে। গুলি মানুষ চেনে না। বিপ্লব দে পার্থ আরও বলেন, ‘আমি একটি মাধ্যমে আজকে বড় সাজ্জাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি আমাকে নাকি চেনেনও না। আমার ধারণা অভিযুক্ত ব্যক্তি বড় সাজ্জাদের নাম ভাঙিয়ে আমার কাছে টাকা দাবি করেন।’
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকির ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোবারক হোসেন ইমন চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক পরিচিত নাম। ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা ইমন দীর্ঘ দিন ধরে বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে মাঠ পর্যায়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও অস্ত্রবাজি নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। বিশেষ করে ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর থেকে বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ইমন। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় জোড়া খুন, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
